মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ই হেলথ

ই হেলথ 

টেলিমেডিসিন সেবা এবং ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বাংলাদেশের ৪,৫৩৬টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করে থাকেন। এই কেন্দ্রগুলো স্থানীয় জনগণকে নামমাত্র চার্জে আইসিটি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মানসম্মত সেবা দিয়ে থাকে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাগণ এই কেন্দ্রগুলো চালিয়ে থাকেন। এটুআই এই কেন্দ্রগুলোতে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ডিজিটাল ক্যামেরা, স্ক্যানার এবং ইন্টারনেট মডেম দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২২টি ইউনিয়ন ও তথ্য সেবাকেন্দ্রে স্কাইপে ব্যবহার করে টেলিমেডিসিনসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চিকিৎসকগণ এমআইএস অফিসে বসে প্রতি কর্মদিবসে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামীণ জনগণ এই সেবাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বর্তমানে টেলিমেডিসিন সেবা একটি মানসম্মত সেবা আকারে সকলের কাছে গৃহীত হয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহে টেলিমেডিসিন সেবা

ঢাকা, আগস্ট ২০১২। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহ ইন্টারনেট সুবিধাসহ ল্যাপটপ কম্পিউটার পাচ্ছে।২০১২ সাল শেষ হবার আগেই আরও ৩,৫০০ ল্যাপটপ বাকি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সরবরাহ করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনা বর্তমান সরকারের মুখ্য কর্মসূচীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রতি ৬,০০০ জনসংখ্যার জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং দেশের সর্বস্তরের গ্রামীণ জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৮,০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগ হতে এই কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহে বিভিন্ন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যে ল্যাপটপ দেয়া হচ্ছে, যেমনঃ টেলিমেডিসিন, লোকাল হেলথ বুলেটিনে ডাটা হালনাগাদকরণ, সাধারণ নাগরিককে স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি। এই ল্যাপটপগুলোতে তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ এবং অন্তর্গ্রথিত ওয়েব ক্যামেরা ও অডিও সিসটেম আছে। এই কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহে সিএইচসিপিগণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। যদি কোন রোগীর একজন চিকিৎসকের নিকট থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত পরামর্শ দরকার হয় তবে এক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কাছের যে কোন উপজেলা হাসপাতালে উপস্থিত ডাক্তার ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে এই সেবা দিতে পারবেন। এর ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহে ডাক্তারের অনুপস্থিতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

হাসপাতাল অটোমেশন

২০১১-১২ অর্থ বৎসরে সরকারী হাসপাতালগুলো অটোমেশনের কাজ শুরু হয়েছে।এ বছর জাতীয় কিডনী রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট, সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল ও মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টার অটোমেশন করার কাজ শুরুর জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। অগ্রগতি সন্তোষজনক। ২০১২-১৩ অর্থ বৎসরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এ জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট অটোমেশন কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়েছে যার বাস্তবায়ন কাজ শুরু পথে।

হাসপাতাল অটোমেশনের উদ্দেশ্য হাসপাতালের সকল কাজ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদন করা।ধীরে ধীরে দেশের সব সরকারী হাসপাতালে অটোমেশন প্রযুক্তি প্রবর্তন করা হবে। এজন্য ওপেন-এমআরএস (Open Medical Record System) নামে একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার নির্বাচন করা হয়েছে।স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচী ২০১১-১৬-এর আওতায় এই কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এখানে জানিয়ে রাখা ভালো যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক আফম রুহুল হক, এমপি-র নির্দেশে বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকে ইতিমধ্যে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফল বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও রোগীরা পাচ্ছেন।

অনলাইন পপুলেশন হেলথ রেজিস্ট্রি

দেশের সকল নাগরিকের তথ্য সম্বলিত একটি স্থায়ী ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেজিস্ট্রি তৈরির কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে।এজন্য বাংলাদেশের সকল গ্রামে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য শুমারীর মাধ্যমে সকল পরিবারের সকল নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ করা হয়েছে।

এখন চলছে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ইনটেলিজেন্ট ক্যারেক্টার রিকগনিশন বা আইসিআর নামে একটি মেশিন। এই মেশিনটি হাতের লেখাও পড়তে পারে। ডাটা এন্ট্রির পর তৈরি করা হবে একটি কম্পিউটার তথ্য ভান্ডার। এই তথ্য ভান্ডারে প্রতিটি নাগরিকের পরিচিতি নম্বর থাকবে এবং প্রত্যেকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও থাকবে। প্রতি মাসে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে বা কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে সংশ্লিষ্ট স্টাফরা তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এই তথ্য ভান্ডার তৈরি হলে দেশের জনগণের হালনাগাদ জনমিতি, জন্ম-মৃত্যুর হার ও রোগ-ব্যাধিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য তথ্য যে কোন সময় কম্পিউটারের বোতাম টিপেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। যে কোন সার্ভে বা হাসপাতালে রোগী চিকিৎসার সময় রোগীর নাম-ঠিকানা লিখতে হবে না। পরিচিতি নম্বর থেকেই সব তথ্য বের করা যাবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক পাবে একটি লাইফ টাইম হেলথ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ৮ কোটি ভোটারের বিশ্বের বৃহত্তম ইলেক্ট্রনিক ভোটার তালিকা করে যেমন গর্বের অধিকারী, ১৫ কোটি মানুষের ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেজিস্ট্রি হলে হবে তার চেয়েও অনেক অনেক বেশী গর্বের অধিকারী। এই ইলেক্ট্রনিক তথ্য ভান্ডার স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সকলেই জানেন যে, সরকার বর্তমানে জাতীয় পপুলেশন রেজিস্টার তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য জনমিতি সেই রেজিস্টারের সাথে সংযুক্ত থাকবে এবং একে অপরের পরিপুরক হিসেবে কাজ করবে।

সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বিশাল কমপিউটার নেটওয়ার্ক

তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা শত শত স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস ও হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা প্রদান এবং সেগুলোর কাজ ও সেবার পরিমান তথা মান সম্পর্কে

তথ্য আদান-প্রদান করা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল।সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসকল প্রতিষ্ঠানকে তথ্য প্রযুক্তির নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা করে এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই (এপ্রিল ২০০৯) সর্বনিম্ন উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দেশের প্রায় ৮০০টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কম্প্যুটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। দেশে এমন কোন সরকারী হাসপাতাল নেই যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। অক্টোবর ২০১৩-র মধ্যে দেশের সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের কাজ সম্পন্ন হবে। এছাড়া গ্রামীন পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীদের হাতেও দেয়া হচ্ছে টেবলেট কমপিউটার। ইতিমধ্যে ৩,৫০০ কর্মীর হাতে তা চলে গেছে। অক্টোবর ২০১৩-র মধ্যে আরও ৯,০০০ কর্মী এবং পরবর্তি বছরের মধ্যে বাকী ১০,০০০ স্বাস্থ্য কর্মী টেবলেট পেয়ে যাবে।

প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ও মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবার মানের গুনগত উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনলাইন ডাটাবেইসসহ ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তথ্য পাওয়ায় দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সাধারণভাবে প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দৈনিক অন্ততঃ চার বার ইমেইল চেক করে থাকে।বহু অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরি হয়েছে। রুটিন ও তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের বেশীর ভাগই এখন অনলাইন ডাটাবেইজের মাধ্যমেই সম্পাদিত হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার ফলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গতির সঞ্চার হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকগণসহ জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter